কোন জাতের হাঁস পালন লাভজনক

আমাদের দেশে হাঁস পালন করে কর্মসংস্থান তৈরি করছে। হাঁস পালনের মাধ্যমে হাঁসের ডিম ও মাংস আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছে এবং এর পাশাপাশি বাড়িতে ইনকামের সুযোগ হচ্ছে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে হাঁস পালন করা একটি লাভজনক ব্যবসা।

কোন-জাতের-হাঁস-পালন-লাভজনক

তবে সঠিক পদ্ধতিতে হাঁস পালন করতে হবে। সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি যদি হাঁস পালন করতে চান তাহলে অবশ্যই ভাল ইনকাম করতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে চলুন কোন জাতের হাঁস পালন করা লাভজনক তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

পেইজ সূচিপত্রঃ কোন প্রজাতির হাঁস পালন করে লাভজনক

হাঁস পালানের পদ্ধতি

আপনি যদি হাঁস পালন করে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই হাঁস পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে। এবং আপনি যদি হাঁস পালনের সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে পালন করেন তাহলে অবশ্যই ব্যবসায়ী লাভজনক করতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে চলুন হাঁস পালনের পদ্ধতির সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

হাঁস পালন করার জন্য বর্তমানে অনেক পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা যায়। তবে সাধারণত দুই পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা দেখা যায়। হাঁস পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত তুলে ধরা হলোঃ

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন।

আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালন।

আপনি চাইলে উন্মুক্ত এবং আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালন করতে পারেন। আপনি কোন পদ্ধতিতে হাঁস পালন করলে সুবিধাবোধ মনে করবেন সে পদ্ধতিতে আপনি হাঁস পালন করবেন। কেননা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন করলে খরচ কম লাগে। কিন্তু আক্রমণ তো প্রাণী আক্রমণ করতে পারি এই একটা ভয় থাকে। কিন্তু পদ্ধতিতে হাঁস পালন করলে আক্রমণ তক্ষক প্রাণের ভয় থাকে না কিন্তু খরচ বেশি লাগে।

হাঁস পালনের প্রথম ধাপ সমূহ

আপনি যদি হাঁস পালন করতে চান।তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম হাঁস পালনের কয়েকটি ধাপসময় সম্পর্কে জানতে হবে। কেননা হাঁস পালন করার জন্য এসব জানা অত্যন্ত জরুরি। তাহলে দেরি না করে চলুন হাঁস পালনের প্রথম ধাপসময়ার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিব।

হাঁস পালনের প্রথম ধাপ সমূহ এবং পদ্ধতির সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত তুলে ধরা হলোঃ

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন।

আবতাব পদ্ধতিতে হাঁস পাল।

হাঁসের জন্য ঘর তৈরি।

হাঁসের খাবার।

হাঁসের সঠিক পরিচর্যা।

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালনঃ উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন করার জন্য আশেপাশে নদী নালা, খাল বিল, পুকুর এবং জলাশয় থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। কেননা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালনে সকালবেলা অল্প খাবার খাইয়ে নদী নালা,খাল বিল এবং পুকুর পালন করলেও চলে। খাল বিলবা পুকুর সারাদিন ঘুরে বেড়িয়ে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে খাবারগুলো জোগাড় করতে পারে।

এবং সন্ধ্যার সময় হাঁসগুলো বাড়ি ফিরলে তাদেরকে সুষম খাবার অল্প করে দিলেই চলে। এই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন করলে তেমন একটা খরচ করতে হয় না। এবং ছচারাচার গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা। এজন্যই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা লাভজনক।

আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালনঃ আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালন মূলত হাঁসকে ঘরের ভিতর বন্ধ করে রেখে পালন করাকে বোঝায়। আবার তো পদ্ধতিতে হাঁস পালন করার জন্য খাদ্য অনেক বেশি লাগে। এছাড়াও জায়গার পরিমাণ একটু বেশি লাগে। এবং দিনের বেলা নির্দিষ্ট এক জায়গায় ঘেরাও করে রাখা হয়।

আর এই পদ্ধতিতে হাঁস পালনকার একটি সুবিধা হচ্ছে শিকারি প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যাতে করে হাঁস গুলোর কোন ক্ষতি না করতে পারে। এই আবদ্ধ পদে হাঁস পালন করলে হাঁসগুলো নিরাপদ থাকতে পারে।

হাঁসের ঘর তৈরিঃ হাঁস পালন করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে হাঁস রাখার জন্য একটি ঘর ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। এবং যে স্থানে হাঁস রাখবেন অথবা ঘর  তৈরি করবেন সেই স্থান যেন উঁচু জমিতে হয়। এবং ঠান্ডা থেকে সাবধান রাখতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।এবং খোলামেলা পরিবেশ রাখতে হবে যাতে করে আলো বাতাস লাগে।এবং হাস রাখার ঘর আপনি চাইলে ইট অথবা বাঁশ দিয়ে তৈরি করতে পারবেন।

এমন ভাবে তৈরি করবেন যে ক্ষতিকর প্রাণীগুলো হাঁস গুলোকে ক্ষতি না করতে পারে। যেমন কুকুর, শিয়াল ইত্যাদি। এবং হাঁস রাখার ঘরের মেঝোতে ধানের তুস অথবা কাঠের গুড়া ব্যবহার করবেন। এবং এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হাঁস পালনের ঘরের আদ্রতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের ভিতরে যেন আবহাওয়া ভালো থাকে। তাহলে আপনি হাঁস পালন বৃদ্ধি করতে পারবেন।

হাঁসের খাবারঃ হাঁস পালনের ক্ষেত্রে হাঁসের খাবার ব্যবস্থাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা হাঁস পালন করার জন্য সুষম খাদ্য ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর এই সুষম খাদ্য খাওয়ানোর ফলে হাস তাড়াতাড়ি বড় হয় এবং অতি দ্রুত ডিম দেওয়া সম্ভাবনা থাকে। হাঁসের বয়স অনুযায়ী আজকের সুষম খাদ্য দিবেন। হাঁসের খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে 

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন করলে খাবার কম লাগে। এবং আবদ্ধ পদ্ধতিতে হাঁস পালন করলে খাবার একটু বেশি লাগে। এখন সবকিছু নির্ধারণ করে আপনার হাঁস পালনের পদ্ধতি অনুযায়ী। আপনি কি পদ্ধতিতে হাঁস পালন করতে চাচ্ছেন। সে অনুযায়ী খাবার প্রদান করবেন।

হাঁসের পরিচর্যাঃ হাঁস পালনের ক্ষেত্রে হাঁসের সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে হবে। এবং আপনি হাঁসকে যে পাত্রে খাবার দিবেন সে পাত্রটি পরিষ্কার রাখতে হবে। এবং হাঁসের যদি কোন রোগ সনাক্ত করতে পারেন সে অনুযায়ী হাঁসকে চিকিৎসা করবেন। যাতে করে হাঁসের কোন ক্ষতি না হয়। এবং আপনি সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে আপনি অবশ্যই হাঁস পালনের সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

কোন জাতের হাঁস পালন লাভজনক

বর্তমানে বাংলাদেশ বিভিন্ন জাতের হাঁস পালন করছে। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না যে কোন জাতের হাঁস পালন করা লাভজনক হবে। চিন্তার কোন কারণ নেই আজকে আমাদের আরটিকালের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কোন জাতের হাঁস পালন করা সবচেয়ে লাভজনক হবে। তাহলে দেরি না করে চলুন কোন জাতের হাঁস পালন করে লাভজনক হিসাব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কোন-জাতের-হাঁস-পালন-লাভজনক

বর্তমানে সময়ে চায়না প্রজাতির একটি হাঁস পালন করা হচ্ছে, সে হাঁসটির নাম বেইজিং প্রজাতির হাঁস। বেইজিং প্রজাতির হাঁস পালন করে খামারীরা অধিক লাভবান হচ্ছে। বেইজিং হাঁস পালন করার সুবিধা হচ্ছে, এই হাঁসটি অতি দ্রুতই বড় হয়। এবং এই হাঁসটি বছরে ৩০০ টির বেশি ডিম পাড়ে। এবং এই হাঁসের মাংস অন্যান্য হাঁসের তুলনামূলক অনেক বেশি।

বেইজিং হাঁস ৩ মাসের মধ্যে ৪/৫ কেজি মাংস হয়ে থাকে। এবং এই মাংস অনেক সুস্বাদু। বাংলাদেশী হাঁসের জাতের চেয়ে বেইজিং হাঁসের মাংস অনেক বেশি। এবং এই হাঁস পালন করে অধিক পরিমাণে লাভ করা যায়। কেননা বেইজিং হাঁস ৩ মাস পালন করলে বিক্রি করার উপযুক্ত হয়ে যাই। এবং এর খাবারগুলো দেশি জাতের হাঁসকে যে খাবার দেওয়া হয় বেইজিং হাস কে সে খাবার দিলেও চলে।

এজন্য বেইজিং হাঁস পালন করা অনেকটা সহজ এবং লাভজনক। বেইজিং হাঁসের অন্যান্য হাঁসের তুলন রোগ বালাই কম হয়ে থাকে। তবে সাধারণত বেইজিং হাঁসের দু প্রকার রোগ দেখা দিয়ে থাকে এটি হচ্ছে, ডাকপ্লেগ ও ডাক কলেরা। এ রোগ গুলো দেখা দিলে অতি তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করলে সেরে ওঠে। এবং আপনি চাইলে এই যে হাস দুই পদ্ধতিতে পালন করতে পারেন।

উন্মুক্ত পদ্ধতি এবং আবদ্ধ পদ্ধতিতে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বেইজিং হাঁস পালন করলে খাবার কম লাগে। নদী নালা খাল বিলে তারা সারা দিনের খাবার জোগাড় করতে পারে। এজন্যই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খাবার কম লেগে থাকে। এবং আবদ্ধ পদ্ধতিতে বেইজিং হাস পালন করলে খাবার একটু বেশি লাগে। কিন্তু আপাত পদ্ধতিতে চাষ করলে একটি সুবিধা রয়েছে সেটি হচ্ছে আক্রমণ তো প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এখন আপনার সঠিক নির্বাচন করে নিতে হবে। আপনি কোন পদ্ধতিতে হাঁস পালন করা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। উক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনিও হাঁস পালন করতে পারেন এবং অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারেন। এতক্ষণ আপনারা বুঝতে পারছেন যে কোন জাতের হাঁস পালন করলে অধিক লাভজনক হবে। আমি আশা করছি আপনার কাঙ্খিত উত্তরটি পেয়ে গেছেন।

হাঁস পালন করা লাভজনক না ক্ষতি

হাঁস পালন করা বর্তমান সময়ের গ্রাম অঞ্চলে জনপ্রিয়তা হয়ে উঠছে। কেননা হাঁস পালন করার ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা ও রয়েছে। আপনি চাইলে হাঁস পালন করতে পারে। এবং আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।

বর্তমান সময়ের বেকারত্ব দূর করার জন্য হাঁস পালন করছে। বাংলাদেশ অনেক ধরনের হাঁসের জাত রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেইজিং হাঁস। কেননা বেইজিং হাঁস অতি দ্রুতই বড় হয় এবং ডিম দেয়। বেইজিং হাসির মাংস অন্যান্য হাঁসের তুলনায় অনেক বেশি হয় এবং সুস্বাদু। এজন্যই বেইজিং হাঁস পালন করা বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

হাঁস পালন করার ক্ষেত্রে তেমন বেশি খরচ পড়ে না। কেননা গ্রামাঞ্চলে হাঁস পালন করলে নদী নালা, খাল বিল বা পুকুরে হাঁস পালন করা যাবে। সেক্ষেত্রে হাসের সুষম খাদ্য বেশি প্রয়োজন পড়বে না। তারা তাদের খাবার জোগাড় করতে পারবে। এজন্যই হাঁস পালন করা সুবিধাজনক। আর কম খরচে হাঁস পালন করা

হাঁস পালন করার ক্ষেত্রে আপনাকে পরিচর্যা মেনে হাঁস পালন করলে আপনিও লাভবান হতে সক্ষম হবেন। সাধারণত হাঁস দুই পদ্ধতিতে পালন করা হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে উন্মুক্ত পদ্ধতি আরেকটি হচ্ছে আবদ্ধ পদ্ধতি। আপনি যে পদ্ধতিতে হাঁস পালন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন সেই পদ্ধতিতে হাঁস পালন করেন। এতে করে আপনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

হাঁস পালনের উপকারিতা

বর্তমান সময়ে গ্রাম অঞ্চলে হাঁস পালন করা খুবই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কেননা হাঁস পালন করা খুব একটি কঠিন কাজ নয়। হাঁস পালনে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এবং  হাঁস পালন করার ফলে আমাদের আমিষ পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। তাই চলুন হাঁস পালন করার জন্য কি কি উপকারিতা পাওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

বর্তমান সময়ে হাঁস পালন করার জন্য পরিশ্রম কম লেগে থাকে এবং হাঁস পালনে তেমন একটি বেশি খরচ হয় না।

হাঁস পালন করার ফলে আমাদের আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়।

তুলনামূলক মুরগি পালনের চেয়ে হাঁস পালনে রোগ বালাই কম দেখা দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।

হাঁসের বিষ্ঠা জৈব পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে করে জমির জন্য উপকারী।

হাঁস বছরে অনেকগুলো করে ডিম দিয়ে থাকে।

হাঁসকে সঠিক পরিচর্যা করে খাওয়ালে অতি দ্রুতই বড় হয় এবং ডিম দেয়।

হাঁসের বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে করে মাছের খাদ্য কম লাগে।

পুকুর হাঁস ও মাছ একসাথে চাষ করা যায়। এতে করে উভয়ে দিক দিয়ে লাভবান হওয়া যায়।

হাঁসের মাংস প্রতিনিয়ত খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের রক্তশূন্যতা দূর হবে এবং হাঁসের ডিম ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে।

উপরোক্ত মাধ্যম গুলো হাঁস পালনের জন্য উপকারিতা রয়েছে। হাঁস পালন করার ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় তেমনি হাঁস পালন করার ফলে বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে। আমি আশা করছি যে আপনি বুঝতে পেরেছেন হাঁস পালন করার উপকারিতা সম্পর্কে।

বেইজিং হাঁস পালন করার সুবিধা

এতক্ষণ হাঁস পালন করা সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনেছেন। কিন্তু এখন বেজিং হাঁস পালন করার সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। কেননা বেইজিং হাঁস পালন করার জনপ্রিয়তা বেশি পাচ্ছে। তাহলে তো অবশ্যই আপনাকে বেইজিং হাঁস পালন করার সুবিধা সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে দেরি না করে চলুন

কোন-জাতের-হাঁস-পালন-লাভজনক

বেইজিং হাঁস পালন করার সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিব।

বেইজিং হাঁস খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠে।

বেইজিং হাঁসের মাংস অন্যান্য হাঁসের তুলনায় অনেক বেশি। এবং মাংস অনেক সুস্বাদু।

বেইজিং হাঁসের ডিম অন্যান্য হাঁসের তুলনায় একটু বড়। এবং এই হাঁসের ডিম সুস্বাদু।

বেইজিং আর সাধারণত তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

বেইজিং হাঁস তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই বিক্রি করার উপযুক্ত হয়ে থাকে। এবং ডিম দিয়ে থাকে।

বেইজিং হাঁস অন্যান্য হাঁসের সাথে একত্র পালন করাও সম্ভব। 

বেইজি হাঁস ২৫০/৩০০ টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। অন্যান্য হাঁসের তুলনায় এরা ডিম বেশি দিয়ে থাকে।

উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী আপনি জানতে পারলেন যে বেইজিং হাঁস পালনের সুবিধা কি কি। বেইজিং হাঁস পালনে অনেক রকম সুবিধা রয়েছে। এজন্যই বেইজিং হাঁস পালন করা খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা। আপনি চাইলে বেইজিং হাঁসের খামার দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। এতে করে আপনি আর্থিকভাবে লাভবান হাতে সক্ষম হবেন।

বেইজিং হাঁসের খাবার

উপরুক্ত থেকে জেনে আসলাম যে বেইজিং হাঁসের সুবিধাগুলো কি কি। এখন আমাদের জানতে হবে বেইজিং হাঁসের খাবার সমূহ সম্পর্কে। যেহেতু আপনি বেইজিং হাঁস পালন করতে চাচ্ছেন। সে হতো আপনাকে বেইজিং হাঁসের খাবার সময় সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে চলুন বেইজিং হাঁসের খাবার সময় সম্পর্কে জেনে আসি।

সাধারণত অন্যান্য হাঁসকে যে খাবার দেওয়া হয় সে খাবারগুলো দিয়েও বেইজিং হাঁস লালন পালন করা যায়। বেইজিং হাঁস পালন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কেননা অন্যান্য হাসকে যে খাবার দেওয়া হয়ে থাকে। সে খাবারগুলো দিয়েই বেইজিং হাঁস লালন পালন করা যায়। তবে এই চায়না প্রজাতির হাঁস লালন পালন করার ক্ষেত্রে একটু পরিচর্যা বেশি করতে হয়।

তবে বেইজিং হাঁস চাইনা প্রজাতির হাস হওয়া সত্বেও আমাদের বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে মিলিয়ে নিতে পারে। এতে করে হাঁস পালন করার অনেকটাই সহজ হয়ে পড়েছে। আর এই বেইজিং হাঁসের তুলনামূলক রোগ বালাই খুব কম। আপনি যেটাই লালন-পালন করুন না কেন একটা সঠিক পরিচর্যা থাকতে হবে। এবং ভিটামিন যুক্ত খাবার ও সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। তাহলে আপনি হাঁস পালানে লাভ করতে পারবেন।

হাঁসের বিভিন্ন রোগ ও চিকিৎসা

হাঁস পালন করার ক্ষেত্রে কিছু রোগ দেখা দেয়। আর সকল পশু পালনে বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়ে থাকে। আর এই বেইজিং হাঁস পালন করার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। বেইজিং হাঁসের সাধারণত দুইটি রোগ দেখা দিয়ে থাকে সেটি হচ্ছে ডাগপ্লেগ এবং ডাক কলেরা। তবে এছাড়াও বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। তাহলে চলুন বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

হাঁস পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

ডাগ ভাইরাল হেপাটাইটিস রোগঃ সাধারণত এই রোগ গুলো দেখা দেয় হাঁসের ছোট বাচ্চা কে। এ রোগের লক্ষণ গুলি হল ঘাড় বাকা হয়ে যাই, সবুজ পায়খানা হয়, খাওয়া কমিয়ে দেই ইত্যাদি। এইরকম রোগ দেখা দিলে ডাক ভাইরাল হেপাটাইটিস রোগের টিকা দিতে হবে। তবে হাঁসের বাচ্চা কেনার সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

ডাক প্লেগঃ হাঁসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মারাত্মক রোগটি হচ্ছে এ ডাক প্লেগ। এই রোগটি খুব দ্রুতই হাঁসের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই ডাক প্লেগ রোগটি হলে হাঁসের বাচ্চা খাওয়া কমিয়ে দিবে এবং পানি বেশি খাবে, ঘাড় ও মাথা ঘুরতে থাকবে।এরকম লক্ষণ দেখা দিলে অতি দ্রুতই চিকিৎসা করবেন।

ডাক কলেরাঃ সাধারণত ডাক কলেরা রোগ দেখা দিলে হাঁসগুলো পাতলা পায়খানা করবে। এবং পায়খানার সাথে রক্ত বের হতে পারে, হা করে নিশ্বাস নেবে এবং মাথা ফুলে যেতে পারে, এছাড়াও হাঁসকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে তুলবে। এরকম প্রতিফলন দেখা দিলে অতি দ্রুতই হাঁসের চিকিৎসা করাবেন।

মাইকোটক্সিকোসিসঃ এরকম রোগ দেখা দিলে হাঁস একদম নিস্তেজ হয়ে যাবে এবং প্যারালাইসিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাধারণত এর সৃষ্টি হয়ে থাকে পচা খাবার থেকে। এজন্যই হাসকে পচা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। আর এই রকম রোগ দেখা দিলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করাবেন।

আমাশয়ঃ সাধারণত হাঁসের বাচ্চাদের আমাশয় হয়ে থাকে। এ রোগের লক্ষণ হল বাচ্চাগুলো পায়খানা গুলো চুন এর মত হবে। এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার খাওয়া থেকে কম খাবে। এরকম রোগ দেখা দিলে অতীত দ্রুতই হাঁসের চিকিৎসা করাবেন।

উপরোক্ত মাধ্যম গুলো মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে হাঁসের রোগ সম্পর্কে। আপনি যদি হাঁস পালন করতে চান তাহলে উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে আপনি অতি দ্রুতই চিকিৎসা করাবেন। এবং হাঁসের সঠিক পরিচর্যা করবেন। তাহলে আপনি হাঁস পালনে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।

শেষ কথাঃ সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হাঁস পালন করা

বর্তমান সময়ে বেকারত্ব দূর করার জন্য গ্রাম অঞ্চলে হাঁস পালন করা খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কেননা হাঁস পালন করা অধিক লাভজনক একটি ব্যবসা। এই হাঁস পালনের মাধ্যমে আপনি চাইলে উদ্যোক্তা হতে পারবেন।চাইনা বেইজিং প্রজাতির হাঁসটি পালন করলে সবচেয়ে লাভজনক হবে। আপনি চাইলে চাইনা প্রজাতির বেইজিং জাতের হাঁস পালন করতে পারেন।

প্রিয় পাঠক, আমি আশা করছি যে আমাদের আর্টিকালে মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন কোন প্রজাতির হাঁস পালন করা লাভজনক।এবং হাঁস পালনের পদ্ধতি। হাঁস পালনের প্রথম ধাপসমূহ সম্পর্কে জানতে পারলেন। এবং হাঁসের রোগ সম্পর্কে জানতে পারলেন। এতক্ষণ ধৈর্য সহকারে আমাদের আর্টিকেলটি পরে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ..........!!!!!!!  


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url