ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর সহজ উপায়
ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে চান? এবং এছাড়াও ডায়েট না করে অতিরিক্ত ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে চান।তাহলে চিন্তার কোন বিষয় নেই আপনি সঠিক জায়গাতে এসেছেন। কেননা আজকে আমাদের আর্টিকেল এর মধ্যে থাকছে।
ব্যায়াম এবং ডায়েট ছাড় ছোট ছোট টিপস গুলো মেনে চললে আপনি ওজন কমাতে সক্ষম হবেন। তাহলে দেরি না করে চলুন দেওনা করে ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পেইজ সূচিপত্রঃ ব্যায়াম না করে ওজম কমানোর সহজ উপায়
- ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায়
- ওজন কমানোর সুবিধা
- সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন কমে
- রাতে ঘুমানোর আগে কি খেলে ওজন কমে
- শেষ কথাঃ ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায়
ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায়
আপনি কি ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর সহজ উপায় সম্পর্কে জানতে চান?এবং এছাড়াও কঠোর ডায়েট না করেও কিভাবে ওজন কমানো যায়। আপনার অতিরিক্ত ওজনে চিন্তিত। কিভাবে আপনার অতিরিক্ত ওজন কমাবেন। চিন্তার কোন কারণ নেই আমাদের এই আর্টিকেলের মধ্য থাকা ছোট ছোট টিপস মেনে চললে আপনি আপনার অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারবেন।
ক্যালরির হিসাব রাখুনঃ আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণ করেন তাহলে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার অল্প পরিসরে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনি ওজন বৃদ্ধির হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুনঃ ওজন কমানোর জন্য তিন বেলায় নিয়মিত করে খাবার গ্রহণ করেন। অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা অভ্যাস ত্যাগ করুন। তাহলে আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।
সময় নিয়ে খাবার গ্রহণ করুনঃ খাবার গ্রহণের সময় চিবিয়ে চিবিয়ে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। ধীরে ধীরে চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন এবং ওজন বৃদ্ধি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
আরও পড়ুনঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ঘরোয়া উপায়
ছোট প্লেটে খানঃ আগের যুগের চেয়ে বর্তমান যুগে প্লেট একটু বড়। এ বড় হওয়ার কারণে প্লেটে অতিরিক্ত খাবার নিয়ে থাকি এবং খেয়ে থাকি। এতে করে আমাদের ওজন বৃদ্ধি হয়ে থাকে। তাই চেষ্টা করুন ছোট প্লেটে খাবার খাওয়ার। এবং সবজি, প্রোটিন জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখার।
প্রোটিন বেশি খানঃ প্রতিবেলা খাবারের সঙ্গে প্রোটিন জাতীয় খাবার তালিকায় রাখুন। প্রোটিন যুক্ত খাবার দীর্ঘ সময়ের জন্য পেটে থাকে। এতে করে ক্ষুধার্ত ভাব কম লাগে।
বাড়ি তৈরির খাবার খানঃ অনেক সময় দেখা যায় যে আমরা বাইরের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত। কিন্তু বাইরের খাবার শরীরের জন্য মোটেও ঠিক নয়। অতিরিক্ত তেল চর্বি থাকে যা আমাদের ওজন বাড়ে। এজন্যই বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এবং বাড়ির খাবার স্বাস্থ্যসম্মত।
আঁশযুক্ত খাবার খানঃ প্রতিবেলা খাবারের সঙ্গে আঁশযুক্ত খাবার তালিকায় রাখুন। কেননা আঁশযুক্ত খাবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে হয়ে থাকে। এবং রক্তের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য সহায়তা করে থাকে। এবং ক্ষুধার্ত ভাব কম লেগে থাকে। এজন্যই খাবার তালিকার সঙ্গে আঁশযুক্ত খাবার রাখা উচিত।
পর্যাপ্ত পানি পান করুনঃ প্রতিবেলা খাবারের আগে এক থেকে দেড় গ্লাস পানি পান করে নিন। এরপর খাবার গ্রহণ করুন। এবং দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। এবং এছাড় মিষ্টি জাতীয় কোমল পানি অর্থাৎ শরবত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বদঅভ্যাস ত্যাগ করুনঃ খাবারের সময় কিছু বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যেমন মনে করুন, খাবার খাচ্ছেন এবং মোবাইল ফোন বা টিভি দেখছেন আর খাচ্ছেন। এটা করে অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার খাওয়া হয়ে যায়। আর অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান তাহলে বদ অভ্যাস গুলো ত্যাগ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুনঃ প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। আর ঘুমের অনিয়ম হলে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ থেকে ক্ষুধার্ত ভাব বেশি থাকে এবং বেশি খাবার গ্রহণ করা হয়। এর জন্যই মূলত ওজন বৃদ্ধি হয়।
আরও পড়ুনঃ রক্তের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়
উপরোক্ত মাধ্যমগুলো মেনে চললে আপনি আপনার ওজন কমাতে সক্ষম হবেন। অতএব আপনি বুঝতেই পারলেন যে ব্যায়াম না করে এবং জিম না করে কিভাবে ওজন কমানো যায়। উপরোক্ত কিছু টিপস মেনে চললে আপনার অতিরিক্ত ওজন কমাতে সক্ষম হবেন।
ওজন কমানোর সুবিধা
উপরোক্ত থেকে জেনে আসলাম ব্যায়াম এবং কঠোর পরিশ্রম ছাড়াই কিভাবে ওজন কমানো যায়। এখন আমাদের জানা উচিত অতিরিক্ত ওজন কমানোর সুবিধা কি কি আছে তার সম্পর্কে। তাহলে দেরি না করে চলুন ওজন কমানোর সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ওজন কমানোর সুবিধা সমূহ সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত তুলে ধরা হলোঃ
- ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর সহায়তা করে থাকে। এজন্যই আমাদের প্রত্যেকের উচিত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখলে ডায়াবেটিস এর হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এতে করে আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।
- ওজন কমানোর ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখার সহায়তা করে থাকে। এজন্যই উক্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ওজন কমানো জরুরী।
- আপনার যদি অতিরিক্ত ওজন থাকে তাহলে হাড় এবং জয়েন্ট এর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখলে হাড় ও জয়েন্ট এর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে না।
- অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির ফলে শ্বাসকষ্ট সমস্যা দেখা দেয়। যা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয় না। এবং এছাড় ঘুমের মান উন্নত রাখায়।
- আপনার যদি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি হয়ে থাকে তাহলে মানসিক চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি বিকাশ ঘটবে না। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন।
- অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির ফলে যে কোন কাজ করার সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় কাজ করা যায় না। এজন্যই অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন। এতে করে শরীর হালকা হবে। কাজ বা অন্যান্য কর্ম করতে হালকা মনে হবে।
উপরোক্তা থেকে জানতে পারলেন যে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকলে বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে কি কি সমস্যা হতে পারে। আপনার যদি অতিরিক্ত ওজন থেকে থাকে তাহলে নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে উপরোক্ত সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।
সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন কমে
সকালে খালি পেটে কি কি খেলে ওজন কমানো যায়। এক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম ব্যায়াম অথবা জিম করতে হয় না। ছোট ছোট কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন। এতে করে আপনাকে ব্যায়াম করতে হবে না এবং জিমে যেতে হবে না। তাহলে চলুন সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন কমে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
জিরা ভেজানো পানিঃ আপনি যদি জিরা ভেজানো পানি প্রতিদিন সকালে খেয়ে থাকেন তাহলে আপনার মেটাবলিজম বাড়ানোর জন্য সহায়তা তা করে থাকে। এজন্যই আপনি প্রতিদিন নিয়মিত করে সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি সেবন করুন।
মধু-দারুচিনি পানিঃ আপনি যদি প্রতিদিন সকালে নিয়মিত করে খালি পেটে মধু বা দারুচিনি পানীয় পান করেন তাহলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য সাহায্য করবে। মধু দারুচিনি পানীয় করার জন্য এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চা চামচ মধু এবং কিছু দারুচিনির গুড়া দিয়ে দিন। এরপর তা সেবন করুন।
আরও পড়ুনঃ চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা
হলুদ পানীয়ঃ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হলুদ পানিও পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ব্যবহার করে সহযোগিতা করে থাকে। আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য প্রতিদিন সকালে হলুদ পানিও পান করুন।
গ্রিন টিঃ আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গ্রিন টি সেবন করুন। গ্রিনটিতে দুধ চিনি মিশানো থেকে সতর্ক থাকুন। আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য গ্রিন টি হতে পারে আপনার এক প্রক্রিয়া।
মৌরির পানিঃ মোরির পানি পান করার ফলে আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য সাহায্য করে থাকবে। এ দানায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে। যা আপনার ওজন কমানোর জন্য ভূমিকা রাখবে।
উপরোক্ত মাধ্যমগুলির মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন কমানো যায় এবং নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। আপনার অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য এবং নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য উপরোক্ত নিয়ম মেনে চলুন। তাহলে আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।
রাতে ঘুমানোর আগে কি খেলে ওজন কমে
রাতে ঘুমানোর আগে কি খেলে ওজন কমে এ প্রশ্ন সবারই মনে জেগে থাকে। কিন্তু সঠিক তথ্য জানেন না। তাহলে কোন ব্যাপার না। আপনি নিম্নে থেকে পড়তে থাকুন তাহলে জানতে পারবেন রাতে ঘুমানোর আগে কি খেলে ওজন কমে।
আরও পড়ুনঃ নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
কলাঃ কলাতে রয়েছে পুষ্টি গুণে ভরপুর। কিন্তু অনেকেই ভেবে থাকেন যে কলা খেলে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মোটেও নাই কলা খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কলা খেলে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
আমন্ড বাদামঃ আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আমন্ড বাদাম খেতে পারেন। এতে ক্যালোরি পরিমাণ কম থাকে। তাই ওজন কখনো সাহায্য করে থাকে।
চিনাবাদামঃ রাতে ঘুমানোর আগে চিনা বাদাম খেতে পারেন। চিনা বাদামে প্রোটিনে ভরপুর রয়েছে। যার কারণে পেশি শক্তি তৈরি করতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও ওজন কমানোর জন্য করে থাকে।
দইঃ ওজন কমানোর জন্য দই দুর্দান্ত একটি মাধ্যম। রাতে ঘুমানোর আগে পরিমাণ মতো দই খেলে ওজন কমানোর সাহায্য করে থাকবে।
ছানাঃ রাতে খাবারের পরে যদি আপনার ক্ষুধার্ত ভাব তৈরি হয় তাহলে আপনি ছানা খেতে পারেন। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। যা আপনার ওজন কমানোর জন্য সাহায্য করবে।
উপরোক্ত মাধ্যমগুলো মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে রাতে ঘুমানোর আগে কি খেলে ওজন কমবে। আপনার অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি হয়ে থাকলে ওজন কমানোর জন্য উপরোক্ত মাধ্যম গুলো অবলম্বন করতে পারেন।
শেষ কথাঃ ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায়
কিভাবে আপনি আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারবেন তাও আবার ব্যায়াম এবং জিম করা ছাড়াই। জিম এবং ব্যায়াম করা ছাড়াই ওজন কমাতে চাইলে কিছু টিপস রয়েছে এগুলো মেনে চললে আপনি অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারবেন। আপনার যদি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তাহলে উপরোক্ত মাধ্যমগুলো অবলম্বন করতে পারেন।
প্রিয় পাঠক, আমি আশা করছি যে আজকে আমাদের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানতে পেরেছেন ব্যায়াম না করেই কিভাবে ওজন কমানো যায়। এতক্ষণ ধৈর্য সহকারে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ......!!!!!
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url